আড়ংয়ের ট্রায়াল রুমে গোপনে ১৩ তরুণীর ১২০টি ভিডিও!

আড়ংয়ের ট্রায়াল রুমে গোপনে ১৩ তরুণীর ১২০টি ভিডিও!

একটি দুটি নয়, ১৩ তরুণীর ১২০টি ভিডিও তার কাছে। রাজধানীর বনানীতে আড়ংয়ের এক শো-রুমের ট্রায়াল রুমে পোশাক পরিবর্তন করার সময় এসব ভিডিও করেছিল সে।এরপর যাদের ভিডিও করা হয়েছে, তাদের কাছে সেই ভিডিও পাঠাতো ফেসবুকের মেসেঞ্জারে। কখনও অর্থ দাবি কখনও বিকৃত চাহিদার কথা জানাতো তাদের।

কিন্তু, শেষ রক্ষা হয়নি। এক তরুণীর অ’ভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রা’ইম বিভাগ সিরাজুল ইসলাম সজীব (২২) নামে ওই তরুণকে গ্রে’প্তার করেছে। গ্রে’প্তার যুবক আড়ংয়ের বনানী শাখার সাবেক কর্মী।গত শনিবার কাফরুল থা’নার পূর্ব শেওড়াপাড়ার মনিপুর স্কুলের সামনে থেকে তাকে গ্রে’প্তার করা হয়। তার বি’রুদ্ধে সাইবার সি’কিউরিটি অ্যান্ড ক্রা’ইম বিভাগের উপপরিদর্শক ফারুক হোসেন বাদী হয়ে বনানী থা’নায় ডিজিটাল নি’রাপত্তা আ’ইনে একটি মা’মলা দা’য়ের করেন।

গ্রে’প্তার সজীব বাবার নাম মৃ’ত নূরে আলম স্বপন মুন্সী। গ্রামের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন থানার আমিনাবাদে। রাজধানীর ১০৯৮ নম্বর পূর্ব শেওড়াপাড়ার একটি বাসায় থাকতো সজীব।সাইবার সি’কিউরিটি অ্যান্ড ক্রা’ইম বিভাগের অ’তিরিক্ত উপকমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আড়ংয়ের একজন অফিসার আমাদের কাছে এসেছিল। তাদের দেওয়া তথ্য মতেই আমরা সজীবকে শ’নাক্তের পর গ্রে’প্তার করি। সজীবকে এক দিনের রি’মান্ডে নিয়ে জি’জ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

মা’মলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আড়ংয়ের বনানী শাখায় ক’র্মরত এক নারী ১৬ জানুয়ারি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তিনি অ’ভিযোগ করেন, ১১ জানুয়ারি রাত ১২টা ৩৭ মিনিটে সিরাজুল ইসলাম সজীব তার ফেসবুক মেসেঞ্জারে সীমান্ত সৈকত নামে আরেকটি ফেসবুক আইডি থেকে পাঠানো একটি ভিডিও দেখতে বলে।ওই নারী ভিডিওতে দেখেন, আড়ংয়ের বনানী শাখার চতুর্থ তলার কর্মচারীদের জন্য পোশাক পরিবর্তন রুমে, পোশাক পরিবর্তন করার সময় তার ভিডিও ধারণ করে পাঠিয়েছে।

এ সময় সজীব তাকে ভিডিও করে শরীর দেখাতে বলে এবং তার কথা মতো কাজ না করলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার হু’মকি দেয়।মা’মলার ত’দন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সজীবের কাছ থেকে একটি রেডমি ৫ প্লাস ফোনসেট জ’ব্দ করা হয়। ওই মোবাইলে তার নিজের ফেসবুক আইডি লগইন অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিক জি’জ্ঞাসাবাদে সে আড়ংয়ের ওই নারীকর্মীর ভিডিও করা এবং হু’মকি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে।

প্রাথমিক জি’জ্ঞাসাবাদে সজীব জানিয়েছে, আড়ংয়ে চাকরিরত অবস্থায় সজীব চতুর্থ তলার কর্মচারী চেঞ্জরুমের বাইরের সানসেট-এ দাঁড়িয়ে সেলফি স্টিক দিয়ে মোবাইল ক্যামেরার মাধ্যমে নারী কর্মচারীদের অজান্তে তাদের নিজস্ব ইউনিফর্ম পরিবর্তন করার ভিডিও ধারণ করতো। তার কাছ থেকে ১৩ জন তরুণীর ১২০টি ভিডিও উ’দ্ধার করা হয়েছে।ত’দন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মক’র্তা জানান, ২০১৯ সালের অক্টোবরে এক নারীকর্মীর ভিডিও করার অ’ভিযোগে ডিসেম্বর মাসে সজীবকে চাকরিচ্যুত করা হয়।তবে তার কাছে আগের করা সব ভিডিওগুলো সংরক্ষিত ছিল। তাকে এক দিনের রি’মান্ডে আনা হয়েছে। তার কাছ থেকে আরও তথ্য উ’দ্ধারের চেষ্টা চলছে।

আড়ংয়ের চিফ অপারেটিং অফিসার আশরাফুল আলম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত আছি। মা’মলা দা’য়ের করার ব্যাপারে অ’ভিযোগকারীকে শুরু থেকেই সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে আসছি। আড়ং যৌ’ন হ’য়রানিমূলক যেকোনো ক’র্মকাণ্ডের বি’রুদ্ধে নীতিগতভাবে সর্বদা কঠোর অবস্থানে থাকে।এ ধরনের ক’র্মকাণ্ডে জ’ড়িত থাকায় গত বছরের ডিসেম্বরে সজীবকে চাকরিচ্যুত করা হয়। বর্তমানে চলমান মা’মলাটির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য আড়ংয়ের পক্ষ থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে সার্বিক সহায়তা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© ২০১৯-২০২০ | সময়ের আয়না কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত