Home / প্রবাসী খবর / সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন আরও ১১৩ জন বাংলাদেশি

সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন আরও ১১৩ জন বাংলাদেশি

সৌদি আরব থেকে আরও ১১৩ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি- ৮০৪ বিমানে দেশে ফেরেন তারা। বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে নভেম্বরের প্রথম সাত দিনে মোট ৯৩০ জন দেশে ফিরলেন। তাদের মধ্যে ৫৩৪ জনকে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় জরুরি সহায়তা দিয়েছে ব্র্যাক।

প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের গত দশ মাসে সৌদি আরব থেকে ২০ হাজার ৬৯২ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। বরাবরের মতো গতকালও ফেরত আসাদের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম থেকে খাবার-পানিসহ নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে জরুরি সহায়তা প্রদান করা হয়।

সৌদি থেকে দেশে ফেরাদের একজন কুষ্টিয়ার কামাল হোসেন জানান, সাত লাখ টাকা খরচ করে দেড় বছর আগে সৌদি আরব গিয়েছিলেন তিনি। একটি দোকানে কাজও করতেন নিয়মিত। কাজ থেকে রুমে ফেরার সময় পুলিশ গ্রেফতার করলে কামাল ফোন দেন কফিলকে (নিয়োগ কর্তা)। কিন্তু কফিল কোনো দায়িত্ব নেননি। ফলে তাকে দেশে ফিরে আসতে হলো। বাবুল, জহির, রেজাউলসহ আরও কয়েকজন যে কোম্পানিতে কাজ করতেন সে কোম্পানির পোশাক পরেই শূন্য হাতে দেশে ফিরেছেন। তাদের কয়েকজনের পায়ে সেন্ডেলও ছিল না।

তারা জানান, কাজ শেষে কর্মস্থল থেকে রুমে ফেরার সময় পুলিশ তাদের ধরে। বৈধ আকামা থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে ধরে কোম্পানির দেয়া কাপড়েই দেশে পাঠিয়ে দেয়। কিশোরগঞ্জের আহসান জানান, অভাবের সংসারে দিনমজুর বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে বিদেশে গিয়ে পরিবারে সচ্ছলতা আনবে। সেই স্বপ্ন নিয়ে মাত্র চার মাস আগে সৌদি গিয়েছিলেন তিনি। বৈধ আকামাও ছিল। কিন্তু তাকে দেশে ফিরতে হলো শূন্য হাতে।

একই রকম তথ্য জানান বরিশালের শ্রাবন, কিশোরগঞ্জের জালাল, কুমিল্লার রনি, গাইবান্ধার মোস্তফা, মুন্সিগঞ্জের হান্নানসহ আরও অনেকে। ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ২১ হাজার বাংলাদেশিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ফিরলেন ৯৩৪ জন। যারা ফেরত এসেছেন তাদের বর্ণনা একই রকম। তারা সবাই খালি হাতে ফিরেছেন।

তিনি জানান, যারা কয়েক মাস আগে গিয়েছিলেন তাদের কেউই খরচের টাকা তুলতে পারেননি। এখন ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা। এভাবে ব্যর্থ হয়ে যারা ফিরছেন তাদের পাশে সবার দাঁড়ানো উচিত। পাশাপাশি এভাবে যেন কাউকে শূন্য হাতে ফিরতে না হয় সেজন্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে দায়িত্ব নিতে হবে। দূতাবাস ও সরকারকেও বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা বন্ধ করা উচিত।

About admin

Check Also

বাংলাদেশে কর্মব্যস্ত মালয়েশিয়ান পুলিশ টিম !!

রয়েল মালয়েশিয়ান পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম বাংলাদেশ সফর করছে। অক্টোবর মাসে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশের হাইকমিশনার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *