সিলেট বিভাগে চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গোয়েন্দা তালিকায় ৫১৬ জনের নাম রয়েছে। একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে দেশের ৩৮ জেলার মোট ৪ হাজার ৮৩৯ জনকে চোরাচালান নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের তিন জেলায় তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সিলেটে ১১০ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৭ জন এবং সুনামগঞ্জে ১০৫ জনের নাম রয়েছে। তবে বিভাগের বাকি জেলার তথ্য এই প্রতিবেদনের সরবরাহ করা অংশে উল্লেখ করা হয়নি।
সিলেটের বিভিন্ন এলাকার নাম তালিকায়
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সিলেট জেলার বিভিন্ন এলাকার কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কানাইঘাটের চারিকাটার শাহজাহান মিয়া, ডাউকেরগুলের হাসান আলী, মিকিরপাড়ার মইনুল ইসলাম ও বালিছড়ার সোহেল উদ্দিন।
এ ছাড়া কোম্পানীগঞ্জের লামাগ্রামের আলাল মিয়া, গোয়াইনঘাটের দমদমা হাওরের ফরচান, বিছনাকান্দির আবুল হোসেন, তামাবিলের আবদুর রহমান, জকিগঞ্জের খাসিরচরের জালাল, গঙ্গাজলের সিহাব, পীরের চকের উজ্জ্বল, ঘিলাতৈলের শামসুল হক এবং হরিপুরের আবদুর রশিদের নামও প্রতিবেদনে রয়েছে।
তালিকায় জৈন্তাপুরের নিশ্চিন্তপুরের জহিরুল ও লামাবস্তির সুমন মিয়া, ফেঞ্চুগঞ্জের ফয়সাল আহমেদ এবং বিয়ানীবাজারের বাঙ্গালহুদার আবু হানিফ, টেকের কোনার বিল্লাল হোসেন ও গজুকাটার সাদেক মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোতে নজরদারি
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জকিগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে। এসব পথে মাদক, অস্ত্র, গবাদিপশু ও বিদেশি পণ্য অবৈধভাবে আনা-নেওয়ার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নজরদারি করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশের সীমান্ত দিয়ে ভারত ও মিয়ানমার থেকে বিভিন্ন পণ্য অবৈধভাবে প্রবেশের বিষয়টিও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।