বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সুনামগঞ্জ জমি নিয়ে বিরোধ | সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ

শান্তিগঞ্জে প্রবাসীর বাড়ির ২০টি গাছ কাটার অভিযোগ, থানায় লিখিত আবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি • ২৩ ঘণ্টা আগে • পঠিত: ৭ বার
শান্তিগঞ্জে প্রবাসীর বাড়ির ২০টি গাছ কাটার অভিযোগ, থানায় লিখিত আবেদন
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে বসতভিটার সীমানায় থাকা প্রায় ২০টি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিবেশী ও চাচা আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন আবদুল হান্নান টিপু। গাছ কাটতে বাধা দেওয়ায় তাঁকে প্রাণনাশ ও বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আমিরুল ইসলাম।

শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও কোনাবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বসতভিটার জমির মালিকানা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বাড়ির আশপাশে পড়ে আছে কাটা গাছ

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে নোয়াগাঁও গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পাশাপাশি বসবাস করেন অভিযোগকারী আবদুল হান্নান টিপু ও অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম। টিপুর বসতভিটার পূর্ব পাশে একটি টিনশেড ঘর এবং পশ্চিম দিকে ঝোপঝাড় রয়েছে। বাড়ির আশপাশে প্রায় ২০টি গাছ কাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। কয়েকটি গাছের গুঁড়ি ও ডালপালা আমিরুল ইসলামের বসতভিটায় রাখা রয়েছে। কেটে নেওয়া অন্য গাছগুলোও তাঁর বাড়িতে রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন টিপু।

থানায় লিখিত অভিযোগ

গত ২৭ অক্টোবর থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে আবদুল হান্নান টিপু উল্লেখ করেন, বসতবাড়ির জায়গা নিয়ে আমিরুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এর জের ধরে ২৭ অক্টোবর সকালে আমিরুল তাঁর বাড়ির সীমানায় থাকা একটি বড় রেইনট্রি গাছ কেটে ফেলেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

টিপুর দাবি, বিভিন্ন প্রজাতির আরও কয়েকটি গাছ কেটে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে। তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

টিপুর পরিবারের সদস্য সালেমা বেগম ও আবদুল হান্নান টিপু অভিযোগ করেন, তাঁরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে গাছগুলো কেটে নেওয়া হয়েছে। বাধা দিতে গেলে প্রাণনাশ ও বাড়ি থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয় পঞ্চায়েতের উদ্যোগে সালিস বৈঠক হলেও আমিরুল বৈঠক থেকে উঠে চলে যান বলে তাঁদের দাবি। পরে তাঁরা পুলিশের সহায়তা নিতে বাধ্য হন।

জমির মালিকানা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

গ্রামের বাসিন্দা মনা উল্লাহ বলেন, ভাগবাঁটোয়ারার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা বর্তমানে হান্নান ও তাঁর ভাই মান্নানের। তাঁর দাবি, ওই জায়গা থেকে আমিরুল জোর করে গাছ কেটে নিচ্ছেন।

একই গ্রামের আবুল কালাম বলেন, জমিটি আগে ভাগাভাগি করা হয়েছিল। তবে আমিরুল বিদেশ থেকে ফিরে এসে নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি করেছেন। বর্তমানে তিনি গাছগুলোর মালিকানা দাবি করছেন বলে জানান আবুল কালাম।

স্থানীয় সালিসি ব্যক্তিত্ব সুজন মিয়া বলেন, বসতভিটার জায়গা, গাছ ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে আগেও বিরোধ হয়েছে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য বৈঠক করা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আমিরুল বৈঠক থেকে চলে যাওয়ার পর তাঁকে বুঝিয়ে আবার বৈঠকে আনা হয়। তবে ওই বৈঠকে টিপুর মা উপস্থিত ছিলেন না।

অভিযোগ অস্বীকার আমিরুলের

অভিযোগ অস্বীকার করে আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার লাগানো গাছই আমি কেটেছি। এলাকার সবাই জানেন, এগুলো আমার নিজের হাতে লাগানো গাছ। আমার ওপর আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

সালিস বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জমি ও গাছের মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের বিপরীতমুখী বক্তব্যের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদটি শেয়ার করুন:
Facebook Twitter WhatsApp

সম্পর্কিত খবর

ট্যাগ: শান্তিগঞ্জে গাছ কাটার অভিযোগ
০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০৪ সকাল