বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সিলেটের খবর অনলাইনে প্রেম, এরপর বিয়ে

প্রেমের টানে চীন থেকে সিলেটে, বিয়ে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা

ডেস্ক রিপোর্ট • ২৩ ঘণ্টা আগে • পঠিত: ৮ বার
প্রেমের টানে চীন থেকে সিলেটে, বিয়ে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা
অনলাইনে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে চীন থেকে সিলেটের ওসমানীনগরে এসে এক তরুণীকে বিয়ে করেছেন লিও ফাভিন নামের এক চীনা নাগরিক। তাঁর ধর্মান্তর ও বিয়ে নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হলে নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে ইসলাম গ্রহণ ও বিয়ের প্রমাণপত্র যাচাই করে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের জিম্মায় তাঁকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

সোমবার (৩ নভেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। লিও ফাভিন চীনের জিয়াংসি এলাকার বাসিন্দা। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি নিজের নাম রেখেছেন আব্দুল্লাহ বলে জানিয়েছেন।

অনলাইনে পরিচয়, এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশে আসা

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামের দিঘিরপাড় এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন জামাল মিয়া। তাঁর স্থায়ী বাড়ি পার্শ্ববর্তী জগন্নাথপুর উপজেলার সাহারপাড়া এলাকায়। জামাল মিয়ার মাদ্রাসাপড়ুয়া মেয়ে ছামিয়া আক্তারের সঙ্গে অনলাইনে পরিচয় হয় লিও ফাভিনের। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

দীর্ঘদিনের সেই সম্পর্কের টানে প্রায় এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশে আসেন লিও। এরপর তিনি ছামিয়ার বাড়িতে অবস্থান করেন।

বিয়ে ও ধর্ম নিয়ে এলাকায় আলোচনা

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সোমবার বিকেল থেকে ওই বাড়িতে স্থানীয় উৎসুক মানুষের ভিড় জমতে থাকে। চীনা নাগরিককে দেখতে আসার পাশাপাশি তাঁর ধর্ম ও বিয়ে নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন অনেকে। একপর্যায়ে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে রাত ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লিও ফাভিনকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়।

পরে তাঁর ইসলাম গ্রহণ ও বিয়ের প্রমাণপত্র পুলিশের কাছে উপস্থাপন করেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এসব কাগজপত্র দেখার পর ওই রাতেই তাঁদের জিম্মায় লিওকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

‘আইনি প্রক্রিয়া মেনেই বিয়ে করেছি’

লিও ফাভিন জানান, অনলাইনে ছামিয়া আক্তারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরেই তাঁকে বিয়ে করতে বাংলাদেশে এসেছেন তিনি। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর নিজের নাম রেখেছেন আব্দুল্লাহ। তাঁর দাবি, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ছামিয়াকে বিয়ে করেছেন।

ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই চীনা নাগরিককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে ধর্মান্তর ও বিয়ের প্রমাণপত্র দেখে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের জিম্মায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন:
Facebook Twitter WhatsApp