বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতি, চাপে ট্রাম্প

ডেস্ক রিপোর্ট • ৬ ঘণ্টা আগে • পঠিত: ১৭ বার
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতি, চাপে ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রাথমিক ফলাফলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাচ্ছে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি। সিনেটের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে জয় এবং প্রতিনিধি পরিষদের একাধিক আসনে এগিয়ে থাকার ফলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর চাপে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন, সিনেটের ৩৫টি আসন এবং ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের ফলাফল এখনো গণনা ও হালনাগাদের পর্যায়ে রয়েছে। ফলে কংগ্রেসের দুই কক্ষের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের গুরুত্বপূর্ণ জয়

নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে ডেমোক্র্যাটরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসনে জয় পেয়েছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ফলাফলভিত্তিক প্রতিবেদনে টেক্সাসে জেমস তালারিকোর কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করা এবং দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় অ্যানি অ্যান্ড্রুজের জয়কে বড় অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। জর্জিয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।

তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের আরও আসনে জয় নিশ্চিত করতে হবে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের ফলাফল তখনো চূড়ান্ত হয়নি।

প্রতিনিধি পরিষদেও নিয়ন্ত্রণ বদলের সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের মোট আসন ৪৩৫টি। কোনো দলকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে কমপক্ষে ২১৮টি আসন নিশ্চিত করতে হয়। নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের আসনসংখ্যা ছিল ২১৯, আর ডেমোক্র্যাটদের ছিল ২১৪; দুটি আসন শূন্য ছিল।

প্রাথমিক ফল ও নির্বাচনী বিশ্লেষণে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে সব আসনের ফল প্রকাশ ও গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে

মধ্যবর্তী নির্বাচনকে প্রেসিডেন্টের শাসনামলের ওপর ভোটারদের মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হয়। ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়নের উদ্যোগে বাধা দিতে পারবেন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর কংগ্রেসের নজরদারি ও তদন্ত বাড়াতে পারবেন।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণও ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে বিচারপতি ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনীতি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ

নির্বাচনী প্রচারণায় জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম, অভিবাসননীতি এবং ইরানকে ঘিরে সংঘাত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় দ্রব্যমূল্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের কর হ্রাস ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপকে তাঁদের নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের নজরদারি জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ফলাফল নিয়ে বিতর্কের আশঙ্কা

নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে বিতর্কের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রতিনিধি পরিষদীয় আসনে ভোটিং মেশিনে ত্রুটির খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জালিয়াতির অভিযোগ ছড়ায়। তবে স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি ব্যালট গণনা করা হবে।

২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর ট্রাম্প ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এবারের নির্বাচনেও কোনো অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নির্বাচন কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও প্রমাণের গুরুত্ব থাকবে।

চূড়ান্ত ফলের অপেক্ষা

প্রাথমিক ফলাফল ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে গেলেও কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে এখনো বেশ কিছু আসনের ফল গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের ফল চূড়ান্ত হলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়ে আইন প্রণয়ন, প্রশাসনিক নিয়োগ এবং কংগ্রেসের তদন্ত কার্যক্রমে রাজনৈতিক ভারসাম্য কতটা বদলাবে, তা স্পষ্ট হবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন:
Facebook Twitter WhatsApp