যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের মধ্য দিয়ে দলটি সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেয়েছে। তবে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভোট গণনা চলায় চূড়ান্ত ফল জানতে আরও অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে উত্তর ক্যারোলাইনা, জর্জিয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। উত্তর ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসনটি নিজেদের করে নিয়েছেন সাবেক গভর্নর রয় কুপার। জর্জিয়ায় জন অসফ এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারে ক্রিস পাপাসও জয় ধরে রেখেছেন বা আসন নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে ফ্লোরিডায় রিপাবলিকান অ্যাশলি মুডি জয় পেয়েছেন।
সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেল ডেমোক্র্যাটরা
নির্বাচনের ফলাফলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতছাড়া হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা একাধিক রক্ষণশীল অঙ্গরাজ্যে অপ্রত্যাশিত জয় পেয়ে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
উত্তর ক্যারোলাইনায় রয় কুপারের জয় রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন হারানোর ঘটনা। জর্জিয়ায় জন অসফের পুনর্নির্বাচন এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারে ক্রিস পাপাসের জয়ও ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান শক্ত করেছে।
প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনিশ্চয়তা
প্রতিনিধি পরিষদেও ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতি দেখা গেছে। প্রাথমিক ফলাফলে অন্তত সাতটি আসন রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ডেমোক্র্যাটদের দখলে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে ভোট গণনা চলায় এই কক্ষের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ এখনো নিশ্চিত হয়নি।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ায় কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদও তাদের নিয়ন্ত্রণে গেলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে রিপাবলিকানরা।
ট্রাম্পের নীতিনির্ধারণে বাড়তে পারে বাধা
কংগ্রেসের অন্তত একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হতে পারে রিপাবলিকানদের।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের রাজনৈতিক অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে প্রতিনিধি পরিষদের চূড়ান্ত ফল এবং বিভিন্ন আসনের পূর্ণাঙ্গ ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কংগ্রেসের সামগ্রিক ক্ষমতার ভারসাম্য পুরোপুরি স্পষ্ট হবে না।