কানাডায় ২০৯ বাংলাদেশিকে ঘিরে অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ২৪৩টি অস্থায়ী ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য ও জাল নথি ব্যবহার করে ভিসা পাওয়ার ব্যবস্থা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব আবেদন কুইবেক ও অন্টারিও প্রদেশে করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)।
গত ২২ অক্টোবর সংস্থাটি এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভিসাপ্রার্থীদের আবেদনে কানাডার নাগরিকদের আমন্ত্রণকারী বা আতিথ্যদাতা হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করে ভিসা প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি করা হয়েছিল।
### চারজন আদালতে, একজনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা
অভিযুক্ত পাঁচজনের মধ্যে রাশেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া ও কাজী নাফিজ আলম ২২ অক্টোবর কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। পঞ্চম অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বাংলাদেশে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
সিবিএসএ জানিয়েছে, ২৪৩টি ভিসা আবেদনের মধ্যে তদন্তকারীরা ৭৯টি আবেদনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করেছেন। এসব আবেদনের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনার মতো প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে সংস্থাটির দাবি।
যেভাবে শুরু হয় তদন্ত
২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মারসিয়ে শহরের একটি বাসায় বসবাসকারীদের বিষয়ে নিয়মিত যাচাইয়ের সময় বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে আসে। ওই অভিযানে সিবিএসএর কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ ও দমকল বিভাগের সদস্যরাও অংশ নেন।
কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য প্রমাণ পাওয়ার পর একই বছরের আগস্টে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়।
পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওতে চারটি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করেন তদন্তকারীরা। এ সময় সংগ্রহ করা নথিপত্র ও কম্পিউটার সরঞ্জাম বিশ্লেষণ করে পাঁচ অভিযুক্তের সঙ্গে কথিত জালিয়াতির যোগসূত্র পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিবিএসএ।
যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে কানাডায় প্রবেশে সহায়তার ষড়যন্ত্র, অভিবাসন আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিতে উৎসাহিত করা এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ফলে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।
কানাডায় অভিবাসনসংক্রান্ত তদন্ত বাড়ছে
সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কানাডার অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সন্দেহে ১৯১টি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা হয়। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আরও ৫৫টি তদন্ত শুরু হয়েছে।
সূত্র: কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)।