যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনিক নীতি এবং নির্বাচনী প্রচারে ধনকুবেরদের বিপুল অর্থ ব্যয়—সব মিলিয়ে এবারের ভোট রিপাবলিকান পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠেছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে দলটির সামনে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন, বাজেট ও নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাধা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর কংগ্রেসের নজরদারিও জোরদার হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
নির্বাচনী প্রচারে ধনকুবেরদের বিপুল অর্থ
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনকুবের ও রাজনৈতিক অর্থদাতারা। আল জাজিরার ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নির্বাচনী চক্রে ৫০টি বৃহত্তম দাতা ও দাতা-প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে ২৭৭ কোটি ডলার দিয়েছেন।
এর মধ্যে রিপাবলিকানপন্থী দাতা ও সংগঠনগুলোর অবদান ১৬৭ কোটি ডলার। ডেমোক্র্যাটপন্থী দাতা ও সংগঠনগুলোর অবদান ৮৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। বাকি ২৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার এসেছে দ্বিদলীয় ও বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাতাদের কাছ থেকে।
ব্যক্তিগত দাতাদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। নির্বাচনী অর্থায়নের তথ্য অনুযায়ী, তিনি রিপাবলিকান-সমর্থিত রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর জন্য প্রায় ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার ব্যয় করেছেন। এ ছাড়া এলিজাবেথ ও রিচার্ড উইহলেন দিয়েছেন ১৫ কোটি ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রে সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (সুপার পিএসি) বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয় করতে পারে। এসব সংগঠন প্রার্থীদের সমর্থনে বা বিরোধিতায় প্রচার চালায়, তবে আইন অনুযায়ী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারে না।
ইরান যুদ্ধ ও ট্রাম্পের নীতি নির্বাচনী আলোচনায়
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের ব্যয়, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে ভোটারদের মনোভাব নির্বাচনী বিতর্কে ভূমিকা রাখছে।
প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে যুদ্ধসংক্রান্ত নীতি, সরকারি ব্যয় এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে কংগ্রেসে শুনানি ও তদন্তের উদ্যোগ বাড়তে পারে। তবে নির্বাচনের ফল কী হবে, তা ভোটের আগে নিশ্চিত করে বলা যায় না।
ট্রাম্পকে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান স্যান্ডার্সের
ডেমোক্র্যাট সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ধনীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ফলে শ্রমজীবী ও সাধারণ পরিবারগুলো অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ছে।
স্যান্ডার্সের মতে, নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ও তাঁর প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে। তবে ট্রাম্পের নীতি নিয়ে ভোটারদের মূল্যায়ন একরকম নয়; অর্থনীতি, অভিবাসন, নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির মতো বিষয়ও ভোটের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হয়। নির্বাচনের ফল কেবল আইনসভায় দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাই নির্ধারণ করে না, প্রেসিডেন্টের মেয়াদের পরবর্তী দুই বছরের রাজনৈতিক পরিবেশও প্রভাবিত করে।
রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনগত ও নীতিগত কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। বিপরীতে, ডেমোক্র্যাটরা এক বা উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে প্রশাসনের সঙ্গে আইনসভার বিরোধ বাড়তে পারে।
ফলে ৩ নভেম্বরের ভোটের দিকে নজর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহল, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের। নির্বাচনের ফলের পাশাপাশি কংগ্রেসের দুই কক্ষে আসন বণ্টনও নির্ধারণ করবে ট্রাম্প প্রশাসনের বাকি মেয়াদে রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে এগোবে।