বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক

কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাবর্তন, ট্রাম্পের ক্ষমতায় বাড়ছে চাপ

আহবাব চৌধুরী খোকন • ২১ ঘণ্টা আগে • পঠিত: ৪৬ বার
কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাবর্তন, ট্রাম্পের ক্ষমতায় বাড়ছে চাপ
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম ব্যালটে না থাকলেও নির্বাচনের ফলাফলে তাঁর প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন ঘটেছে। রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিতেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। ফলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে ট্রাম্পের দল। মেয়াদের বাকি দুই বছর তাই বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছেন তিনি।

৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটরা। টেক্সাস, কানসাস, ওহাইও, মেইন, আইওয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে রিপাবলিকানদের পরাজয় দলটির জন্য বড় ধাক্কা। বিশেষ করে রিপাবলিকানদের ঐতিহ্যগত শক্ত ঘাঁটিতে ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্য মার্কিন রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

মিশিগানে আবদুল এল সায়েদের জয়ও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। মিসরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান সায়েদের নির্বাচিত হওয়া মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

নির্বাচনের ফলাফলে তরুণ ও হিস্পানিক ভোটারদের মধ্যেও রিপাবলিকানদের সমর্থন কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন নির্বাচনী বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। ফলে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে গড়ে ওঠা ভোটার জোটের মধ্যে যে পরিবর্তন ঘটছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে ডেমোক্র্যাটরা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নিয়োগ ও বিচারপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে। একই সঙ্গে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, সরকারি ব্যয় এবং কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত ও জবাবদিহির চাপ বাড়ানোর সুযোগ পাবে তারা।

ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার সুযোগ পাবেন। তাঁর নেতৃত্বে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসে বিরোধীদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

তবে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেই ডেমোক্র্যাটরা সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারবে না। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের হাতে ভেটো ও নির্বাহী ক্ষমতা রয়েছে। ফলে বাজেট, সরকারি অর্থায়ন ও বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে কংগ্রেসের সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে এই নির্বাচন শুধু ডেমোক্র্যাটদের বিজয় নয়, ট্রাম্পের নেতৃত্বের জন্যও একটি বড় রাজনৈতিক সতর্কবার্তা। এত দিন নিজ দলের নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে যেসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন, এখন সেগুলোতে বিরোধীদের কঠোর প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে তাঁকে। মেয়াদের বাকি দুই বছর ট্রাম্প কীভাবে এই নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা মোকাবিলা করেন, সেটিই এখন ওয়াশিংটনের রাজনীতির বড় প্রশ্ন।

লেখক: যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক, নিউইয়র্ক।
সংবাদটি শেয়ার করুন:
Facebook Twitter WhatsApp