বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা চান মার্কিন ভোটাররা: ভ্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক • ১১ ঘণ্টা আগে • পঠিত: ৪ বার
ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা চান মার্কিন ভোটাররা: ভ্যান্স
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ের পেছনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ককে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁকে ভোট দেওয়া অনেক সমর্থক এবার ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীদের সমর্থন করেছেন। তাঁদের আবার রিপাবলিকান শিবিরে ফেরাতে ইরান যুদ্ধ বন্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ধরন পরিবর্তনসহ চারটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব কথা বলেন ভ্যান্স।

ভোটারদের অসন্তোষের চার কারণ

ভ্যান্স তাঁর পোস্টে লেখেন, ২০২৪ সালে ট্রাম্প-ভ্যান্সকে ভোট দেওয়া অনেকেই ২০২৬ সালে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন। কয়েকজন জনমত জরিপকারীর তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, রিপাবলিকানদের ছেড়ে যাওয়া ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কী করলে তাঁরা আবার দলটির প্রতি সমর্থন ফিরিয়ে আনবেন।

ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের উত্তরে চারটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। এগুলো হলো—

১. ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করা।
২. জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দেওয়া।
৩. ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করা।
৪. ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ধরন পরিবর্তন করা।

ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, একজন রক্ষণশীল মার্কিন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব প্রশাসনকে ইরান সংঘাত কূটনৈতিকভাবে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছিলেন। এখন দেখা যাচ্ছে, তাঁর সেই রাজনৈতিক পরামর্শ যথার্থ ছিল।

ভ্যান্সের মন্তব্য, রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ এই যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও আগের রাতে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন।

যুদ্ধের প্রভাব স্বীকার করলেও সিদ্ধান্তে অটল ট্রাম্প

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে বিরোধী দলের প্রভাব বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাতে ট্রাম্প স্বীকার করেন, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ক্ষতি হয়েছে। তবে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তকে তিনি সমর্থন করেন।

বুধবার ভ্যান্সের মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ভাইস প্রেসিডেন্টের নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই। তবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি অনুতপ্ত নন এবং একই পরিস্থিতিতে আবারও একই সিদ্ধান্ত নিতেন বলে জানান।

ইসরায়েল নীতিতে ট্রাম্প-ভ্যান্সের ভিন্ন অবস্থান

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর আগে ভ্যান্স এর বিরোধিতা করেছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর এপ্রিল থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণ বন্ধ থাকার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্প বরাবরই ইসরায়েল ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি জোরালো সমর্থন দিয়ে আসছেন। তবে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত ভ্যান্স এ বিষয়ে তুলনামূলক সংযত অবস্থান নিয়েছেন।

গত মাসে ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের আগে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানালেও ভ্যান্স তা করেননি। এর আগে জুনে ইরান যুদ্ধ অবসানে ট্রাম্পের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করায় নেতানিয়াহু সরকারের কয়েকজন সদস্যের সমালোচনা করেন তিনি।

জুলাইয়ে ভ্যান্স অভিযোগ করেন, ইসরায়েল সরকারের কিছু অংশ যুদ্ধের বিষয়ে মার্কিন জনমত প্রভাবিত করে আলোচনার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে।

গত মাসেও তিনি বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ইসরায়েলের নীতির অধীন হতে পারে না। ওয়াশিংটনকে নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
সংবাদটি শেয়ার করুন:
Facebook Twitter WhatsApp