সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক

বিশ্ববাজারে কমল অপরিশোধিত তেলের দাম

ডেস্ক রিপোর্ট • ৮ ঘণ্টা আগে • পঠিত: ৪ বার
বিশ্ববাজারে কমল অপরিশোধিত তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দর কমে আসে। এর আগে গত সপ্তাহে তেলের দাম প্রায় ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তবে সৌদি আরবে হামলা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে সরবরাহের ঝুঁকি থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ কাটেনি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দামে পতন

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় সোমবার সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে ডব্লিউটিআই ক্রুড ফিউচার্সের দাম ১ ডলার ৭৬ সেন্ট বা ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০১ ডলার ৫১ সেন্টে নেমে আসে।

একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ১ ডলার ৪৯ সেন্ট বা ১ দশমিক ২৮ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১১৫ ডলার ২৩ সেন্টে দাঁড়ায়।

এর আগে শুক্রবার সৌদি আরবে হুথিদের হামলার পর জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়লে তেলের দাম প্রায় ৩ ডলার বেড়েছিল। সপ্তাহ শেষে ব্রেন্টের দাম মোট ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

উত্তেজনা কমানোর কূটনৈতিক তৎপরতা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে রোববার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে যান বলে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এ ছাড়া সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সোমবার ইরানের নেতাদের সঙ্গে তেহরানে বৈঠক করার কথা রয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুথিদের সৌদি আরবে হামলার ঘটনা আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ানোর পর এই যোগাযোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরবরাহ ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা

ফিলিপ নোভার বাজার বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান প্রিয়াঙ্কা সচদেবের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি এখনো উল্লেখযোগ্য। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তেলের দামের সাম্প্রতিক পতন মূলত বিনিয়োগকারীদের অবস্থান সমন্বয় ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ফল; সরবরাহ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের উন্নতির প্রমাণ নয়।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরলও সোমবার সিঙ্গাপুরে এক শিল্প সম্মেলনে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ২০২৭ সালে জ্বালানি বাজার ইরান যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে বলে তিনি আশা করছেন না।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক উদ্যোগের অগ্রগতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি তেলের দামের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সংবাদটি শেয়ার করুন:
Facebook Twitter WhatsApp