সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক

লুলার জয়ে বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক • ৮ ঘণ্টা আগে • পঠিত: ৩ বার
লুলার জয়ে বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। দ্বিতীয় দফার ভোটে ডানপন্থী প্রার্থী ও সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ সুগম করেছেন তিনি। তাঁর এই জয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতা ও রাজনীতিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনে লুলা পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৭৬ শতাংশ বৈধ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। ভোটের ব্যবধান প্রায় ৪৪ লাখ।

অভিনন্দন জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশের নেতা

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম লুলাকে অভিনন্দন জানিয়ে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনও তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ব্রাজিলের নির্বাচনের ফল গণতন্ত্র ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ লুলার জয়কে প্রগতিশীল রাজনীতির প্রত্যাবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার প্রত্যাশা জানিয়েছেন।

চিলির প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্ত এবং ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়াও লুলাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁদের বার্তায় আঞ্চলিক সহযোগিতা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

চীন ও রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন নির্বাচনে লুলার বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। বেইজিং ব্রাজিলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিনও লুলার পুনর্নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়েছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং ব্রিকস জোটের উন্নয়নে লুলার ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে।

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল লুলার জয়কে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বার্তায় শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ধারাবাহিকতার বিষয়টি উঠে এসেছে।

ফল নিয়ে আপত্তি ফ্লাভিও বলসোনারোর

নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফ্লাভিও বলসোনারো ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ভোটগ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি নির্বাচনের ফল বাতিলের আবেদন করার কথা বলেছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটের সময় বাড়ানো নিয়ে বিতর্ক থাকলেও দুই প্রার্থীর পক্ষ থেকেই কিছু এলাকায় ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জের ঘোষণা দিয়েছেন ফ্লাভিও।

লুলার সামনে নতুন মেয়াদের চ্যালেঞ্জ

ব্রাজিলের রাজনীতিতে লুলার এই জয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রথম দফার ভোটে পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয় দফায় জয় পাওয়া দেশটির নির্বাচনী ইতিহাসে বিরল ঘটনা। নতুন মেয়াদে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, অপরাধ দমন এবং রাজনৈতিক বিভাজন মোকাবিলা করতে হবে তাঁকে।

লুলার পুনর্নির্বাচনে সমর্থকেরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও বিরোধী শিবিরের আপত্তি দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে। ফলে নতুন মেয়াদে সরকার পরিচালনার পাশাপাশি রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করাও লুলার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন:
Facebook Twitter WhatsApp