৮৯ মিনিটে ফ্যাবিও সিলভার গোলে ২-২ সমতা, গোল ব্যবধানে এগিয়ে বায়ার্ন
হ্যারি কেইনের পেনাল্টি মিসের পরও জয়ের স্বপ্ন দেখছিল বায়ার্ন মিউনিখ। কিন্তু ম্যাচের শেষ দিকে ফ্যাবিও সিলভার গোলে সেই স্বপ্ন ভেঙে দেয় বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। শনিবার বুন্দেসলিগার উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইটি শেষ হয়েছে ২-২ গোলের ড্রয়ে। দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফেরায় গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট পেয়েছে ডর্টমুন্ড।
কেইনের পেনাল্টি মিস, তবু এগিয়ে বায়ার্ন
ম্যাচের আগে সমর্থকদের সামনে হ্যারি কেইনের ব্যালন ডি’অর পুরস্কার প্রদর্শন করা হয়। এরপর মাঠে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে দুই দল।
প্রথমার্ধের ৩৫ মিনিটে জোবে বেলিংহ্যামের গোলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল ডর্টমুন্ড। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় অফসাইড ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল হয়।
এরপর ডর্টমুন্ডের ভুল পাস কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। ফেলিক্স এনমেচারের দুর্বল পাস থেকে বল পেয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠেন কনরাড লাইমার। তাঁর গোলেই লিড নেয় স্বাগতিকরা।
বিরতির পর বায়ার্নের আক্রমণের চাপ আরও বাড়ে। এনমেচারের হ্যান্ডবলের কারণে পেনাল্টি পায় দলটি। কিন্তু স্পটকিক থেকে কেইনের নেওয়া জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ হারায় বায়ার্ন।
গিরাসির গোলে সমতা, উপামেকানোয় ফের লিড
পেনাল্টি মিসের পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ডর্টমুন্ড। বায়ার্ন অধিনায়ক নিকো শ্লটারবেকের পাস আটকে বল দখলে নিয়ে আক্রমণ সাজান। পরে কার্নি চুকউয়েমেকার বাড়ানো বলে কাছ থেকে গোল করে সমতা ফেরান সেরু গিরাসি।
তবে বায়ার্নের লিড বেশিক্ষণ অক্ষত থাকেনি এমন নয়; বরং আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ কাজে লাগায় দলটি। কেইনের সহায়তায় গোল করেন দাইয়ো উপামেকানো। এতে মনে হচ্ছিল, পেনাল্টি মিসের হতাশা কাটিয়ে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে বায়ার্ন।
কিন্তু ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় কনস্তান্তিনোস কারেতসাসের সঙ্গে সমন্বিত আক্রমণ থেকে গোল করেন ফ্যাবিও সিলভা। তাঁর গোলে ২-২ সমতায় ফেরে ডর্টমুন্ড। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করে দুই দল।
ম্যাচ শেষে স্কাই জার্মানিকে ডর্টমুন্ড কোচ নিকো কোভাচ বলেন, মিউনিখে এসে দুইবার পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফেরা সহজ নয়। তাঁর মতে, দল যথার্থভাবেই একটি পয়েন্ট অর্জন করেছে। নিজেদের ওপর বিশ্বাস হারাননি বলেও জানান তিনি।
এই ড্রয়ের পর পয়েন্টের হিসাবে বায়ার্ন ও ডর্টমুন্ড কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। গোল ব্যবধানে এগিয়ে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন।
চোট নিয়ে দুশ্চিন্তায় বায়ার্ন
ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে পয়েন্ট হারানোর পাশাপাশি খেলোয়াড়দের চোট নিয়েও উদ্বেগে রয়েছে বায়ার্ন। ভাইরাস থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকায় দলের সঙ্গে ছিলেন না কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি। এর মধ্যে মঙ্গলবার অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের মাঠে খেলতে যাওয়ার আগে নতুন করে চোটের সমস্যা দেখা দিয়েছে।
শনিবারের ম্যাচে ইসমায়েল সাইবারি, সার্জে নাব্রি ও মাইকেল অলিসেকে বদলি করে তুলে নিতে হয়। আগে থেকেই চোটের কারণে মাঠের বাইরে রয়েছেন জামাল মুসিয়ালা ও লুইস দিয়াজ।
বায়ার্নের ক্রীড়া পরিচালক ম্যাক্স এবার্ল বলেন, এই ড্রয়ের মূল্য দলের জন্য বেশ চড়া হতে পারে। সাইবারি ও নাব্রির চোটকে তিনি কিছুটা গুরুতর বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে বাবার আকস্মিক মৃত্যুর পর তিনটি ম্যাচে অনুপস্থিত থাকা অধিনায়ক জশুয়া কিমিচ এ ম্যাচে দলে ফিরেছেন।
ফুলক্রুগের রেকর্ডে ভাগ
ওয়েস্ট হ্যাম থেকে ধারে ফেরার পর ওয়ার্ডার ব্রেমেনের হয়ে গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন নিকলাস ফুলক্রুগ। হফেনহাইমের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে প্রথম গোলটি করেন তিনি। দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন এরেন দিনচি।
এই গোলের মাধ্যমে টানা সপ্তম বুন্দেসলিগা ম্যাচে শুরুর একাদশে নেমে গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী ফুলক্রুগ। এতে ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে রুডি ফোলারের গড়া ক্লাব রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন তিনি।
ফুলক্রুগ বলেন, রেকর্ড ভাঙার জন্য তিনি গোল করেন না। তবে এমন কৃতিত্বের অংশ হতে পারাকে ভালো লাগার বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। দলের সঙ্গে খেলতে পারার আনন্দের কথাও জানান এই স্ট্রাইকার।
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ব্রেমেনের হয়ে ১০ ম্যাচে ১২ গোল করেছেন ফুলক্রুগ। এর আগে ওয়েস্ট হ্যামে ১৮ মাসে তাঁর গোলসংখ্যা ছিল মাত্র তিন। ছয় মাসের ধারে এসি মিলানের হয়ে করেছিলেন একটি গোল।
অ্যাওয়ে ম্যাচে লিপজিগের প্রথম জয়
নবাগত শালকের মাঠে ২-০ গোলে জিতে চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো অ্যাওয়ে ম্যাচে জয় পেয়েছে আরবি লিপজিগ। ৩৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আন্তোনিও নুসা। ম্যাচ শেষ হওয়ার ১২ মিনিট আগে দ্বিতীয় গোলটি করেন রোমুলো।
এই জয়ের আগে ঘরের মাঠে বুন্দেসলিগার চারটি ম্যাচেই জিতেছিল লিপজিগ। ওই ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষের জালে ১৮ গোল দিলেও একটিও হজম করেনি দলটি। তবে মৌসুমের আগের তিনটি অ্যাওয়ে ম্যাচেই হেরেছিল তারা।
জয়ের পর পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে লিপজিগ। তাদের চেয়ে এক পয়েন্ট এগিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রাইবুর্গ, যারা অগসবার্গের মাঠে ২-১ গোলে জয় পেয়েছে।
লেভারকুসেনকে হারিয়ে জয়ে ফিরল স্টুটগার্ট
অন্যদিকে, এরমেদিন দেমিরোভিচের জোড়া গোলে বায়ার লেভারকুসেনকে তাদের মাঠে ৪-২ গোলে হারিয়েছে স্টুটগার্ট। দলের হয়ে বাকি গোল দুটি করেন জেমি লেভেলিং ও বিলাল এল খানুস।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ের হতাশা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে স্টুটগার্ট। এর আগে নিজেদের সর্বশেষ আট ম্যাচের মধ্যে মাত্র তিনটিতে জয় পেয়েছিল দলটি।