মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে আবারও আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হয়েছে। আম্পায়াররা লাইট মিটারে আলো পরীক্ষা করার পর পর্যাপ্ত আলো না থাকায় ক্রিকেটারদের মাঠ ছাড়তে হয়। এর আগে বৃষ্টির কারণেও খেলা ব্যাহত হয়েছিল।
তবে দিনের তৃতীয় সেশনে বল হাতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের বোলিংয়ে দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সফরকারীদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৩৪ রান। ক্রিজে ছিলেন ত্যাজনারায়ণ চন্দরপল ও জাস্টিন গ্রিভস।
মিরাজ-তাইজুলের আঘাতে চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
দ্বিতীয় দিনের প্রথম দুই সেশনে উইকেটের দেখা না পেলেও তৃতীয় সেশনের শুরুতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। ফিফটি তুলে নেওয়া ওপেনার জন ক্যাম্পবেলকে ফিরিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৫৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন ক্যাম্পবেল।
এরপর এক ওভারে দুই উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা দেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ইনিংসের ৩৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে কাভেম হজকে আউট করেন তিনি। ২০ বলে ৭ রান করেন হজ। একই ওভারের পঞ্চম বলে আমির জাঙ্গোকেও ফিরিয়ে দেন তাইজুল। কোনো রান না করেই বিদায় নেন জাঙ্গো।
ক্যাম্পবেল, হজ ও জাঙ্গোকে হারিয়ে চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলের বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন চন্দরপল ও জাস্টিন গ্রিভস।
প্রথম উইকেট এনে দেন হাসান
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসে প্রথম সাফল্য পায় বাংলাদেশ দলীয় ২৯ রানে। পঞ্চম ওভারে হাসানের অফ স্টাম্পের বাইরে করা বলে ব্যাট চালাতে গিয়ে উইকেটরক্ষক জাকের আলি অনিকের হাতে ক্যাচ দেন ব্রেন্ডন কিং। ১৫ রান করে ফেরেন এই ওপেনার।
এরপর ত্যাজনারায়ণ চন্দরপল ক্রিজে এসে ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করতে থাকেন। অন্যদিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে রান তুলছিলেন ক্যাম্পবেল। এই জুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে গেলেও তৃতীয় সেশনে বাংলাদেশের স্পিনাররা ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন।
আলোকস্বল্পতা ও বৃষ্টির কারণে তৃতীয় সেশনের খেলা শুরু হতেও দেরি হয়েছিল। খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশের বোলাররা দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে চাপ তৈরি করেন।
সাদমানের সেঞ্চুরির পরও ২৭২ রানে অলআউট বাংলাদেশ
এর আগে সাদমান ইসলামের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা তৈরি হলেও দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতে বাকি সাত উইকেট হারিয়ে মাত্র ৫৯ রান যোগ করতে পারে স্বাগতিকরা। শেষ ১০ রানের মধ্যে পড়ে চার উইকেট।
ফলে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ২৭২ রানে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১০৫ রান করেন সাদমান ইসলাম। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তাঁর তৃতীয় সেঞ্চুরি। তাওহীদ হৃদয় করেন ৪২ রান। চোটের কারণে মাঠের বাইরে যাওয়া লিটন দাস অপরাজিত থাকেন ৩৪ রানে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান পাঁচ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বড় ধস নামান। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তাঁর চতুর্থ পাঁচ উইকেটের কীর্তি। শামার জোসেফ ও জশুয়া বিশপ নেন দুটি করে উইকেট।
মিরপুরে দিনের খেলা আলোকস্বল্পতায় থেমে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের বোলাররা ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের এই চাপ কতটা কাজে আসে, সেটিই দেখার বিষয়।