শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
সিলেটের খবর রাজনৈতিক দূরত্ব পেরিয়ে উন্নয়নে সমন্বয়

দক্ষিণ সুরমার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবেন এমএ মালিক ও কাইয়ূম চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিনিধি • ১৫ ঘণ্টা আগে • পঠিত: ৫১ বার
দক্ষিণ সুরমার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবেন এমএ মালিক ও কাইয়ূম চৌধুরী
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা পেছনে ফেলে দক্ষিণ সুরমার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মালিক ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী। সিটি করপোরেশনে নতুন অন্তর্ভুক্ত দক্ষিণ সুরমার ছয়টি ওয়ার্ডের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে দুই নেতার মধ্যে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ওয়ার্ডে প্রায় ২৮০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে সিটি করপোরেশন।

গতকাল দুপুরে নগর ভবনে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরীর কার্যালয়ে যান সংসদ সদস্য এমএ মালিক। এ সময় তাঁকে স্বাগত জানান প্রশাসক। বৈঠকে দক্ষিণ সুরমার নতুন অন্তর্ভুক্ত ছয়টি ওয়ার্ডের উন্নয়ন কার্যক্রম, নাগরিক সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মনোনয়ন ঘিরে ছিল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা
একই রাজনৈতিক বলয়ের নেতা হলেও সিলেট-৩ আসনে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে এমএ মালিক ও আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন দুজন। শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এমএ মালিক। অন্যদিকে, আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী দায়িত্ব পান সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের।

দুই নেতার রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মক্ষেত্র আলাদা হলেও দক্ষিণ সুরমার উন্নয়ন নিয়ে তাঁদের অভিন্ন লক্ষ্য রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ সুরমার ছয়টি ওয়ার্ড সিটি করপোরেশনের আওতায় যুক্ত হওয়ার পর এসব এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

এ পরিস্থিতিতে উন্নয়নকাজ এগিয়ে নিতে সিটি প্রশাসকের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসেন সংসদ সদস্য এমএ মালিক।
ছয় ওয়ার্ডে ২৮০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প
বৈঠকে প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী জানান, দক্ষিণ সুরমার নতুন অন্তর্ভুক্ত ছয়টি ওয়ার্ডে প্রায় ২৮০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বাকি কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য এমএ মালিকের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রস্তাবও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন তিনি।

বৈঠক শেষে এমএ মালিককে নিজের কার্যালয়ে আপ্যায়ন করেন সিটি প্রশাসক।
উন্নয়নে কোনো বিভক্তি নেই: এমএ মালিক
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য এমএ মালিক মানবজমিনকে বলেন, নগর ভবনে প্রশাসকের কার্যালয়ে এটিই ছিল তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ। এলাকার উন্নয়নে কাইয়ূম চৌধুরী আন্তরিক বলে তিনি মনে করেন।

এমএ মালিক বলেন, দক্ষিণ সুরমার ছয়টি ওয়ার্ড সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সেখানে উন্নয়নকাজ পরিচালনায় কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছিল। প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি কাজগুলো এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কিছু কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আরও প্রায় ১৩৭ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শুরুর কথা তাঁকে জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘উন্নয়ন নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো বিভক্তি নেই। জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে আমরা এক। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছি। আগামীতেও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।’
সমন্বয়ের বিকল্প নেই: সিটি প্রশাসক
আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী বলেন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সিলেট সফরের দিন সংসদ সদস্য এমএ মালিক নগর ভবনে আসার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এমএ মালিক ও তিনি একই এলাকার মানুষ। দক্ষিণ সুরমার উন্নয়নে তাঁরা একসঙ্গে কাজ করছেন। নতুন অন্তর্ভুক্ত ছয়টি ওয়ার্ডে প্রায় ২৮০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বৈঠক নিয়ে নিজের ফেসবুক পেজেও বিস্তারিত তুলে ধরেন সিটি প্রশাসক। সেখানে তিনি জানান, সংসদ সদস্যের সঙ্গে ছয়টি ওয়ার্ডের উন্নয়ন কার্যক্রম, নাগরিক সমস্যা, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নগরীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি, ইতোমধ্যে নেওয়া উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রশাসক আরও বলেন, নতুন অন্তর্ভুক্ত ওয়ার্ডগুলোর বাসিন্দারা উন্নত সড়ক, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতামুক্ত পরিবেশ, পরিচ্ছন্ন সড়ক ও মানসম্মত নাগরিক সেবা প্রত্যাশা করেন। এসব প্রত্যাশা পূরণ করা জনপ্রতিনিধি ও সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের কোনো বিকল্প নেই।

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা পেরিয়ে উন্নয়ন প্রশ্নে দুই নেতার এই সমন্বয় দক্ষিণ সুরমার নতুন অন্তর্ভুক্ত ছয়টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। এখন প্রতিশ্রুত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, সেটিই দেখার বিষয়।
সংবাদটি শেয়ার করুন:
Facebook Twitter WhatsApp