বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
বিনোদন

‘মা হয়েছি বলে অভিনয় ছাড়ব কেন?’—পরিণীতি

ডেস্ক রিপোর্ট • ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৮ রাত • পঠিত: ১৫ বার
‘মা হয়েছি বলে অভিনয় ছাড়ব কেন?’—পরিণীতি

মাতৃত্ব জীবনের নতুন অধ্যায়, তবে সন্তান জন্ম দেওয়ার অর্থ অভিনয়জীবন থেকে সরে দাঁড়ানো নয়—এমনটাই মনে করেন বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া। মা হওয়ার পরও নিয়মিত কাজ করতে চান তিনি। তাঁর মতে, মাতৃত্বের কারণে কোনো অভিনেত্রী যেন কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন। সংসার, সন্তান ও পেশাগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রেখে এগিয়ে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্য।

নতুন ওয়েব সিরিজ *ট্রাস্ট নো ওয়ান* (*Trust No One*) নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চিত্রনাট্যের প্রতি ভালো লাগা, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা, স্বামী রাঘব চাড্ডার সহযোগিতা এবং মাতৃত্বের পর ক্যারিয়ার নিয়ে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী।

আড়াই ঘণ্টায় পড়ে শেষ করেন চিত্রনাট্য

পরিণীতির কাছে *ট্রাস্ট নো ওয়ান*–এর চিত্রনাট্য প্রথম পড়াতেই বিশেষ হয়ে ওঠে। অভিনেত্রী জানান, বই পড়তে ভালোবাসলেও কখনো কখনো মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা হয়। কিন্তু সিদ্ধার্থ পি মালহোত্রা ও রেনসিল ডি’সিলভার পাঠানো এই সিরিজের চিত্রনাট্য হাতে পাওয়ার পর তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল একেবারেই আলাদা।

শহরের বাইরে থাকা অবস্থায় চিত্রনাট্যটি পান পরিণীতি। ভেবেছিলেন, পুরোটা পড়তে দুই-তিন দিন লাগবে। কিন্তু মাত্র আড়াই ঘণ্টায় এক বসায় পড়ে শেষ করেন সেটি। গল্পটি তাঁকে এতটাই আকৃষ্ট করেছিল যে পড়া শেষ করেই সিরিজটিতে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলেন।

চিত্রনাট্যের পাশাপাশি নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগও তাঁকে উৎসাহিত করে। নেটফ্লিক্সের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কাজের সম্ভাবনা প্রকল্পটিকে তাঁর কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শুটিংয়ে পেয়েছেন সহযোগিতা

*ট্রাস্ট নো ওয়ান*–এর শুটিং চলাকালে অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন পরিণীতি। তবে শারীরিক অবস্থার কারণে কাজ সামলাতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়নি বলে জানান তিনি। শুটিং ইউনিটের সদস্যরা তাঁর প্রতি যত্নশীল ছিলেন এবং কাজের পরিবেশেও সহযোগিতার ঘাটতি ছিল না।

এ সময় পরিবারের সদস্যরাও তাঁর পাশে ছিলেন। সুখবর জানার পর স্বামী রাঘব চাড্ডা শিমলায় ছুটে যান। পরিণীতির মা, শাশুড়ি ও ভাইয়েরাও সেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন।

পরিবারের সবার একসঙ্গে উপস্থিতি নিয়ে মজার স্মৃতিও রয়েছে অভিনেত্রীর। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তখন মনে হচ্ছিল, পরিবারের সবাই যেন শুটিংয়ে চলে এসেছেন। এই সিরিজের সঙ্গে তাঁর ছেলে নীরের জীবনের শুরুর সময়ের স্মৃতি জড়িয়ে থাকায় কাজটি তাঁর কাছে আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে।

মা হওয়ার পরও কাজ করতে চান

মাতৃত্বের পর অভিনয় থেকে দূরে থাকার কোনো পরিকল্পনা নেই পরিণীতির। বরং সন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে কাজের প্রস্তাব কমে যাওয়ার আশঙ্কা তাঁকে ভাবায়। তাঁর মতে, একজন অভিনেত্রীর কাজ করার ইচ্ছা থাকলেই যথেষ্ট নয়; তাঁকে কাজের সুযোগও দিতে হবে।

মা হওয়ার পরও বলিউডে নিয়মিত কাজ করছেন আলিয়া ভাট, দীপিকা পাড়ুকোন ও পরিণীতির দিদি প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মতো অভিনেত্রীরা। এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, মাতৃত্বের পরও শিল্পীরা নিজেদের পেশাগত পরিচয় ধরে রাখতে পারেন এবং অভিজ্ঞতার সঙ্গে আরও ভালো কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

পরিণীতির বক্তব্যের মূল কথা, মা হওয়া একজন নারীর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনলেও তা তাঁর পেশাগত স্বপ্নের সমাপ্তি হওয়া উচিত নয়।

সন্তানের দায়িত্ব ভাগ করে নেন দুজনেই

রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকেন রাঘব চাড্ডা, আর অভিনয়ের কাজে সময় দিতে হয় পরিণীতিকে। দুই পেশার ব্যস্ততার মধ্যে তাঁদের ছেলে নীরের দেখাশোনা কীভাবে হয়, সে প্রশ্নে অভিনেত্রীর উত্তর স্পষ্ট—সন্তানের দায়িত্ব দুজনেরই।

পরিণীতির মতে, তাঁরা দুজনেই মা-বাবা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই সন্তানের যত্ন নেওয়ার দায়িত্বও সমানভাবে ভাগ করে নেওয়া স্বাভাবিক। তিনি কাজে ব্যস্ত থাকলে রাঘব ছেলের সঙ্গে সময় কাটান; আবার রাঘবের কাজ থাকলে দায়িত্ব সামলান পরিণীতি।

কাজের চাপে ক্লান্ত হয়ে পড়লে স্বামীর সমর্থন তাঁকে সাহস জোগায় বলেও জানান অভিনেত্রী। রাঘব তাঁকে নিশ্চিন্তে কাজে যেতে বলেন এবং প্রয়োজন হলে ছেলের দায়িত্ব নিজে সামলানোর আশ্বাস দেন। পরিণীতির কাছে এই সহযোগিতা পেশাগত জীবন ও মাতৃত্বের মধ্যে ভারসাম্য রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

পেশাগত জগৎ আলাদা, বোঝাপড়া অটুট

পরিণীতি ও রাঘবের কাজের ক্ষেত্র আলাদা—একজন অভিনয়জগতের মানুষ, অন্যজন রাজনীতিবিদ। তাই পেশাগত বিষয়ে তাঁরা খুব একটা পরস্পরকে পরামর্শ দেন না।

রাজনীতি, সংসদীয় বক্তৃতা কিংবা নির্বাচনী বিষয়ে নিজের বিশেষ দক্ষতা নেই বলে জানান পরিণীতি। একইভাবে সিনেমা ও অভিনয়ের ক্ষেত্রেও রাঘবের অভিজ্ঞতা সীমিত। এ নিয়ে মজার একটি ঘটনাও তুলে ধরেন অভিনেত্রী। কোথাও নিজের গান বাজতে শুনে সেটি যে তাঁরই গান, তা স্বামীকে আলাদা করে জানাতে হয়েছিল তাঁকে।

পরিণীতির মতে, দুজনের কাজের জগৎ আলাদা হলেও পারস্পরিক বোঝাপড়ায় তার প্রভাব পড়ে না। বরং একে অপরের পেশাগত পরিসরকে সম্মান করেই তাঁরা সম্পর্ক এগিয়ে নিচ্ছেন।

মাতৃত্বের পাশাপাশি নিজের পরিচয়ও গুরুত্বপূর্ণ

পরিণীতির সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে মাতৃত্ব ও পেশাগত জীবনের সমন্বয়ের বিষয়টি। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কাজ চালিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে সন্তান জন্মের পরও অভিনয়ে সক্রিয় থাকার ইচ্ছা—সব ক্ষেত্রেই পরিবার ও কর্মক্ষেত্রের সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি।

অভিনেত্রীর দৃষ্টিতে, মাতৃত্ব এবং পেশাগত সাফল্য পরস্পরের বিরোধী নয়। একজন নারী মা হওয়ার পাশাপাশি নিজের কাজ ও স্বপ্নও এগিয়ে নিতে পারেন, যদি তাঁর জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও সহায়তা থাকে।

তাই পরিণীতির কাছে মা হওয়া অভিনয়জীবন ছেড়ে দেওয়ার কারণ নয়। বরং জীবনের নতুন দায়িত্বের সঙ্গে নিজের পেশাগত পরিচয় ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আরেকটি অধ্যায়।
সংবাদটি শেয়ার করুন:
Facebook Twitter WhatsApp