বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশ কক্সবাজারের উখিয়ায় নলকূপ খননে গ্যাস উদগীরণ

ইনানীতে গ্যাসের আগুন নিয়ন্ত্রণে লাগতে পারে ১৫ দিন

ডেস্ক রিপোর্ট • ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪৬ সকাল • পঠিত: ৭ বার
ইনানীতে গ্যাসের আগুন নিয়ন্ত্রণে লাগতে পারে ১৫ দিন
ছোট ইনানীতে এক হাজার ফুট গভীরে গ্যাসের উদগীরণ, নিরাপত্তায় ১০০ মিটারের মধ্যে প্রবেশ নিষিদ্ধ

কক্সবাজারের উখিয়ার ছোট ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে গ্যাস উদগীরণের পর আগুন ধরে গেছে। আগুনের প্রবাহ কমে আসতে আনুমানিক ১৫ দিন লাগতে পারে বলে ধারণা করছে পেট্রোবাংলা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে গ্যাস আপাতত উন্মুক্তভাবে নির্গমনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

রোববার পেট্রোবাংলার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

## এক হাজার ফুট গভীরে গ্যাসের উদগীরণ

গত ২৭ অক্টোবর কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোট ইনানী সেতু-সংলগ্ন এলাকায় গভীর নলকূপ খননের সময় এ ঘটনা ঘটে। খননকাজ চলাকালে প্রায় এক হাজার ফুট গভীর থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে। পরে সেই গ্যাসে আগুন ধরে যায়।

ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) দুইজন ভূতত্ত্ববিদকে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা কক্সবাজারে অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

## আগুন কমাতে বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে আপাতত গ্যাসকে উন্মুক্তভাবে বের হতে দেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, আনুমানিক ১৫ দিনের মধ্যে আগুনের প্রবাহ ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আগুনের প্রবাহ না কমলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে অগ্নিনির্বাপণ এবং গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

## ঘটনাস্থলের ১০০ মিটারের মধ্যে প্রবেশ নিষিদ্ধ

নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলের ১০০ মিটারের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।

পেট্রোবাংলা, বাপেক্স ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কর্তৃপক্ষ জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতা মেনে চলার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।

## গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ নিরূপণে জরিপ

ঘটনাস্থলের আশপাশে গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ সম্পর্কে ধারণা পেতে ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও দ্বিমাত্রিক (২ডি) সিসমিক জরিপসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।

এসব জরিপের মাধ্যমে এলাকায় গ্যাসের উপস্থিতি ও সম্ভাব্য মজুদ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত সেখানে কী পরিমাণ গ্যাস রয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো হিসাব জানানো হয়নি।
সংবাদটি শেয়ার করুন:
Facebook Twitter WhatsApp