পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিকদের অবরোধে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৮টা ২৬ মিনিটে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল গ্রুপে বিজিবি মোতায়েনের তথ্য নিশ্চিত করেন।
মহাসড়কে দেড় হাজার শ্রমিকের অবস্থান
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক কালিয়াকৈরের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি জানান, চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, কোনাবাড়ী ও মৌচাক এলাকায় বিজিবি, শিল্প পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাঁরা কাজ করছেন।
জেলা প্রশাসন ও শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিল্প পুলিশ, জেলা পুলিশ, বিজিবি এবং ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।
### দুই দিন ধরে বিক্ষোভ
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গত দুই দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় পোশাকশ্রমিকেরা বিক্ষোভ করছেন। প্রথমে কালিয়াকৈরের মৌচাক, সফিপুর ও চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় সড়ক অবরোধ শুরু হয়। পরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
হাজারো শ্রমিক মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ায় দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি দেখা দেয়।
### ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা
চলমান আন্দোলনের মধ্যে কালিয়াকৈরের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় কয়েকটি কারখানার ফটকে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া মৌচাক এলাকায় একটি পুলিশ বক্স ভাঙচুর, কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে পুলিশ বক্সে আগুন এবং আনসার একাডেমির সামনে একটি পিকআপভ্যানে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে।
পরে রতনপুর, কোনাবাড়ী ও কাশিমপুরসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে প্রায় ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য।