সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনটির কয়েকটি তলার জানালা ও কাচ ভেঙে যাওয়ার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দাবি, ক্ষয়ক্ষতি সীমিত এবং এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
রোববার (৮ নভেম্বর) রিয়াদের কিং আবদুল্লাহ ফিন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্টে (কেএএফডি) অবস্থিত আরামকো টাওয়ারে এ ঘটনা ঘটে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দাবি, ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আরামকো টাওয়ারের একাধিক তলার জানালা বিস্ফোরণের পর উড়ে যেতে দেখেছেন তিনি। ভবনের কাচ ও বাইরের অংশেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে এএফপিকে জানিয়েছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী। তাঁদের একজনের দাবি, একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ভবনটিতে আঘাত হেনেছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতের বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ক্ষয়ক্ষতি সীমিত, হতাহত নেই: সৌদি কর্তৃপক্ষ
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদে সৌদি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলার চেষ্টা চালানো হয়। এতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থেকে পড়ে আসা ধ্বংসাবশেষের কারণে ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সীমিত এবং কোনো প্রাণহানি বা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে রিয়াদের আকাশে একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছিল সৌদি সিভিল ডিফেন্স। পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর কর্তৃপক্ষ জানায়, তাৎক্ষণিক বিপদ কেটে গেছে।
হুতি হামলা ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে রিয়াদের এ ঘটনা ঘটল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, বন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বেড়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও ইয়েমেনে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালাচ্ছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘাত আরও বেড়েছে।
রিয়াদের আরামকো টাওয়ারে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় এখন পর্যন্ত হুতিদের পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ভবনটিকে সরাসরি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।