জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) সঙ্গে গঠনমূলক সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। গণতন্ত্র শক্তিশালী করা, মৌলিক স্বাধীনতা সুরক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়াকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওএইচসিএইচআরের বাংলাদেশ মিশনের নবনিযুক্ত প্রধান সাবিন ম্যাগডালেনা লাউবার পরিচয়পত্র পেশ করতে গেলে প্রতিমন্ত্রী এ প্রতিশ্রুতি দেন। মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় গুরুত্ব
সাক্ষাৎকালে সাবিন ম্যাগডালেনা লাউবারকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্বাগত ও অভিনন্দন জানান হুমায়ুন কবির। এ সময় তিনি সরকারের বিভিন্ন অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মানবাধিকার, মৌলিক স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বাংলাদেশের অব্যাহত যোগাযোগ ও সহযোগিতার বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় আসে। বিশেষ করে জাতিসংঘের ‘স্পেশাল প্রসিডিউরস’-এর আওতায় নিযুক্ত বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
জাতিসংঘের দুই বিশেষ র্যাপোর্টিয়ারের সফর নিয়ে আলোচনা
বৈঠকে মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতিবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার এবং শিক্ষার অধিকারবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ারের আসন্ন বাংলাদেশ সফর নিয়েও মতবিনিময় হয়।
এ সময় ওএইচসিএইচআরের বাংলাদেশ মিশনের কর্মসূচি ও কার্যক্রম সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালনার অনুরোধ জানান হুমায়ুন কবির। দায়িত্ব পালনে নবনিযুক্ত মিশনপ্রধানকে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
সহযোগিতার আশ্বাস ওএইচসিএইচআরের
সাবিন ম্যাগডালেনা লাউবার বাংলাদেশের সরকারের গঠনমূলক সম্পৃক্ততার প্রশংসা করেন। মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় ওএইচসিএইচআরের পূর্ণ সমর্থন থাকবে বলে জানান তিনি।
নিজের দায়িত্বকালে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয় ও পরিকল্পিত কার্যক্রমগুলোও বৈঠকে তুলে ধরেন লাউবার। একই সঙ্গে সরকারের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ ও সহযোগিতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ওএইচসিএইচআরের প্রথম মিশনপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন সাবিন ম্যাগডালেনা লাউবার। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত তিন বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারকের আওতায় এ মিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়।