রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক ও খারকিভ অঞ্চলে প্রায় সাড়ে আট লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোয় রাতভর হামলার পর রোববার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এ তথ্য জানিয়েছে।
যুদ্ধের মধ্যে আরেকটি শীতের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউক্রেন। এরই মধ্যে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
দিনিপ্রোপেত্রোভস্কে ছয় লাখের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন
মধ্যাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রাতের হামলায় গুরুত্বপূর্ণ একটি জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ছয় লাখেরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিটিইকে।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে মেরামতের কাজ চলছে। তবে একই অবকাঠামোয় বারবার হামলার কারণে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
খারকিভে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন আড়াই লাখ গ্রাহকের
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলেও রুশ ড্রোন হামলায় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলাতোপিল শহরের মেয়র মাইকোলা বাকশেইয়েভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, হামলার কারণে ওই অঞ্চলের প্রায় আড়াই লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ সরবরাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা মেরামতের কাজ চলছে। তবে কখন নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এর আগের দিন ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক হামলার কারণে দেশটির পাঁচটি অঞ্চলের বাসিন্দারা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে রাজধানী কিয়েভের বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আবুধাবিতে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার প্রস্তুতি
এদিকে আগামী মঙ্গলবার ও বুধবার আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, আলোচনার আগে কিয়েভের ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই রাশিয়া হামলা জোরদার করেছে।
শীতের আগে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিড ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে মস্কো। এসব হামলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এবারও যুদ্ধকালীন শীতের মুখোমুখি হচ্ছে ইউক্রেন। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ইতোমধ্যে হিমাঙ্কের কাছাকাছি নেমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে নতুন করে হামলা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও শীত মোকাবিলার প্রস্তুতিকে আরও কঠিন করে তুলছে।