প্রবাসীরা দেশে ফিরে যেন হয়রানি বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার না হন এবং তাঁদের বৈধ সম্পত্তি যেন কেউ অন্যায়ভাবে দখল করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে নগর ভবনে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকার ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
সিসিক প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অনেক ব্রিটিশ নাগরিক উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মও সেখানে বেড়ে উঠছে। তারপরও বাংলাদেশের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা ও নাড়ির টান অটুট রয়েছে। সেই টানেই তাঁরা নিয়মিত দেশে আসেন।
প্রবাসীদের দেশে অবস্থানকালে নিরাপত্তা ও সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী আরও বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকারের এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে নগর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে এ ধরনের যোগাযোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সাক্ষাৎ শেষে ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমদ সিসিক প্রশাসক ও তাঁর দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনে তিনি আন্তরিক আতিথেয়তা পেয়েছেন। বৈঠকে সিলেট ও টাওয়ার হ্যামলেটসের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটসের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু প্রবাস বা ভৌগোলিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি রক্ত, আত্মা ও সংগ্রামের সম্পর্ক। টাওয়ার হ্যামলেটসকে বাংলাদেশের বাইরে এক টুকরো বাংলাদেশ বললেও অত্যুক্তি হবে না। সেখানে বাংলাদেশের পতাকা অত্যন্ত গৌরবের সঙ্গে উড়ছে।
ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমদ জানান, বৈঠকে আধুনিক নগরায়ণ, যানজট নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নিজেদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও কার্যকর পদ্ধতি বিনিময়ের মাধ্যমে নগর সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নগর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের রাজনৈতিক নেতৃত্বও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন সাবেক এপিপি অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম, সিলেট প্রেস ক্লাবের সহসাধারণ সম্পাদক খালেদ আহমদ, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ব্যবসায়ী মেহরাব মুমিন এবং সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হানুল হক।