যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রামক শহরের মেয়র নির্বাচনে মুহিত মাহমুদের বিজয় নিশ্চিত করেছেন আদালত। প্রায় এক বছর ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার তাঁর পক্ষে রায় দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শহরের প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান মেয়র হওয়ার পথে তাঁর প্রধান আইনি বাধা দূর হলো।
ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট কোর্টের বিচারক ক্যাথলিন ম্যাকার্থি রায়ে বলেন, মেয়র পদে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় আবাসিক যোগ্যতা রয়েছে মুহিত মাহমুদের। একই সঙ্গে নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন করার নির্দেশ দেন আদালত।
পুনর্গণনায় ১২ ভোটে এগিয়ে মুহিত
২০২৫ সালের নভেম্বরে হ্যামট্রামক শহরের মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক ফলাফলে অ্যাডাম আলহারবিকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে তিনি শপথ নিয়ে মেয়রের দায়িত্বও পালন শুরু করেন।
নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যান মুহিত মাহমুদ। তিনি ভোট পুনর্গণনার পাশাপাশি খুঁজে না পাওয়া পোস্টাল ব্যালট উদ্ধারের দাবি জানান। পরে নির্বাচনী কর্মকর্তারা সিটি ক্লার্কের কার্যালয়ে ৩৭টি ব্যালট পাওয়ার কথা জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভোট পুনর্গণনার নির্দেশ দেন আদালত।
গত সেপ্টেম্বরে ওই ব্যালটগুলো অন্তর্ভুক্ত করে পুনর্গণনা করা হলে অ্যাডাম আলহারবির চেয়ে ১২ ভোট বেশি পান মুহিত মাহমুদ। তবে শহরে তাঁর বসবাসের যোগ্যতা নিয়ে আইনি প্রশ্ন ওঠায় নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন করা যায়নি।
আবাসিক যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগ খারিজ
শুক্রবার মামলার নিষ্পত্তি করে মুহিত মাহমুদের পক্ষে রায় দেন বিচারক ক্যাথলিন ম্যাকার্থি। তাঁর আইনজীবী মার্ক ব্রিউয়ার বলেন, ‘এটি হ্যামট্রামকের ভোটার, গণতন্ত্র এবং মুহিত মাহমুদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বিজয়।’
আইনজীবী আরও জানান, মুহিত মাহমুদের আবাসিক যোগ্যতা নিয়ে আনা অভিযোগ আদালত খারিজ করেছেন। পাশাপাশি ওয়েইন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসার্সকে তাঁকে মেয়র পদে নির্বাচিত ঘোষণা এবং নির্বাচনের ফল প্রত্যয়ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিলেটের সন্তান মুহিত মাহমুদ
মুহিত মাহমুদ সিলেটের সন্তান। এর আগে তিনি হ্যামট্রামক সিটির নির্বাচিত কাউন্সিলম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের রায়ে তাঁর নির্বাচনী বিজয় নিশ্চিত হওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।