মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় হাজী সিরাজ উদ্দিন আহমদের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের কাড়েরা গ্রামের ছকাপনস্থ হাজী সিরাজ উদ্দিন আহমদিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ আয়োজন করা হয়। মরহুমের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি মাহফিলে দ্বীনি শিক্ষার প্রসার, নৈতিকতা ও আদর্শ সমাজ গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন বক্তারা।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও দানশীল ব্যক্তিত্ব হাজী সিরাজ উদ্দিন আহমদের স্মরণে আয়োজিত মাহফিলে স্থানীয় আলেম-উলামা, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, শিক্ষানুরাগী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
দ্বীনি শিক্ষা ও নৈতিকতার ওপর গুরুত্বারোপ
মাহফিলে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাওলানা ড. আহমদ হাসান চৌধুরী শাহান ফুলতলী। তিনি শামসুল উলামা আল্লামা ফুলতলী সাহেব কিবলা (রহ.)-এর উত্তরসূরি।
বক্তব্যে তিনি পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে মানুষের নৈতিক ও আত্মিক উন্নয়ন, দ্বীনি শিক্ষার গুরুত্ব এবং ইলমে দ্বীনের প্রচার-প্রসারে আলেম-উলামার ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দ্বীনি শিক্ষা মানুষকে সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও আদর্শবান হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে। নতুন প্রজন্মকে ইসলামী মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ইসলামের শিক্ষায় মানবকল্যাণ, পারস্পরিক ভালোবাসা, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও উত্তম চরিত্রের গুরুত্ব রয়েছে। ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে এসব আদর্শ অনুসরণের ওপরও তিনি জোর দেন।
মাহফিলে আরও বক্তব্য দেন রাখালগঞ্জ দারুল কুরআন ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুফতি শিহাব উদ্দিন আলিপুরী। তিনি নামাজ প্রতিষ্ঠা, আত্মশুদ্ধি, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা ও পরকালীন জীবনের প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।
মরহুমের অবদান স্মরণ
অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন কুলাউড়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল হক খান শাহেদ। তিনি হাজী সিরাজ উদ্দিন আহমদের স্মৃতিচারণ করে দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষার প্রসারে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে যাঁরা নিজেদের সম্পদ ও শ্রম ব্যয় করেছেন, তাঁদের অবদান স্মরণ রাখা এবং তাঁদের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেওয়া বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব।
এ ছাড়া বাবনিয়া হাসিমপুর নিজামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি আহসান উদ্দিনসহ স্থানীয় আলেম-উলামা ইসলামী জীবনব্যবস্থা, ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে নৈতিক অবক্ষয় রোধের বিষয়ে বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, হাজী সিরাজ উদ্দিন আহমদ দ্বীনি শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষার্থীদের দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করার কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে সমাজের বিত্তবান ও শিক্ষানুরাগীদের সহযোগিতা কামনা করেন তাঁরা।
মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য
অনুষ্ঠানসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সংসদ সদস্য শকতুল ইসলাম শকু মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, মরহুম হাজী সিরাজ উদ্দিন আহমদ যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আবু সাইদ আহমদের পিতামহ এবং জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকার সাবেক কোষাধ্যক্ষ মরহুম আব্দুল মতিনের পিতা।
মাহফিলের শেষপর্বে মরহুম হাজী সিরাজ উদ্দিন আহমদের রুহের মাগফিরাত এবং দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিরা মরহুমের জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্বীনি শিক্ষা এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।