মৌলভীবাজারের কুলাউড়া বিএনপিতে সাইফুল আলম সিদ্দিকির অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ। দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নিউইয়র্ক সফরের সময় তাঁদের বিরুদ্ধে কালো পতাকা প্রদর্শনের অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের মতে, অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যাচাই না করে কাউকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হলে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।
অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা যাচাইয়ের দাবি
অভিযোগকারীদের দাবি, সাইফুল আলম সিদ্দিকি প্রায় ১৭ বছর নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের সময় বিমানবন্দর ও হোটেলের সামনে কালো পতাকা প্রদর্শনের ঘটনাতেও তিনি জড়িত ছিলেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো প্রমাণ এবং সাইফুল আলম সিদ্দিকির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো যাচাই করা এবং তাঁর বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন।
সাংগঠনিক পর্যালোচনার আহ্বান
অভিযোগকারীরা বলছেন, বিএনপির নেতৃত্ব অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ব্যক্তিদের দলে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকলে কুলাউড়ার ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা উচিত।
তাঁদের মতে, সাইফুল আলম সিদ্দিকির অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে কথিত ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতাদের ভূমিকা সাংগঠনিকভাবে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ দাবি
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, রাজনৈতিক দলের আদর্শ, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত নেতাকর্মীদের অবদানের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের মতে, ব্যক্তিগত বিবেচনার পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে দলীয় অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
এ পরিস্থিতিতে কুলাউড়া বিএনপিতে সাইফুল আলম সিদ্দিকির অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃত্বের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।